আত্মহত্যা করতে গেলাম

হাতে বিষের বোতল নিয়ে 

একবার মনে হলো গিলে নেই।

তখনি জানালা দিয়ে চোখ গেলো-

অর্ধেক আকাশ জুড়ে 

আম গাছের ফাঁক দিয়ে 

এক তরল রংধনু উঁকি দিচ্ছে!

নাহ! এই দৃশ্য দেখে তো মরা যায় না!

আমি বোতল ভেঙ্গে দিলাম।


জোর জোয়ারের সময় তীরে দাঁড়িয়ে

একবার মনে হলো ঝাঁপটা দিয়ে দিই।

তখনি দিগন্তের কিনারে চোখ গেলো-

পানির আর সূর্যের দৈনিক

বিয়ের মুহূর্ত এসেছে।

টুপ করে রবিবাবু ডুব দিবে এখন!

নাহ! এই দৃশ্য দেখে তো মরা যায় না!

আমি পিছিয়ে ডাঙায় চলে এলাম।


গহীন রাতে দালানের চূড়ায় দাঁড়িয়ে

একবার মনে হলো লাফটা দিয়ে দিই।

তখনি মাঝ আকাশে চোখ গেলো-

রাতের গোলাপের পাশে

লক্ষের ঘরে মরিচ বাতির মেলা।

চোখ পাকিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে আমায়!

নাহ! এই দৃশ্য দেখে তো মরা যায় না!

আমি আলতো করে নেমে এলাম।


পিস্তলের ঠাণ্ডা নল কপালে ঠেকিয়ে

একবার মনে হলো ঘোড়াটা চেপে দিই।

তখনি মনে ভেসে এলো মায়ের মুখ-

কী নিবিড় মমতায় আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বছরের পর বছর ক্লান্তি ভুলে 

আঁচলে আগলে রেখেছেন আমায়!

নাহ! এই মানুষকে কষ্ট দিয়ে তো মরা যায় না!

আমি আলতো করে পিস্তল নামিয়ে রাখলাম।


ছুরির শীতল ডগাটা পেটে লাগিয়ে

একবার মনে হলো হারিকিরি করে ফেলি।

তখনি স্মৃতিতে এলো জানেমানের চেহারা-

ভালোবাসার কোরকে মুড়িয়ে যে ঢাকতে চেয়েছে আমায়!

দিনের পর দিন যে মুখ আমার

দিনের অভিযোগ হজম করেছে!

নাহ! একে অন্যের জিম্মায় রেখে তো মরা যায় না!

আমি ছুরি সরিয়ে রেখে দিলাম।


আমি নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিতে 

সকল চেষ্টায় চেষ্টা করে গেলাম।

কিন্তু তখনি মনে হলো-হায়!

যে রাস্তার শেষে যেতে পথে নেমেছি

তার মাথা তো দেখলামই না!

নাহ! অর্ধেক জীবন রেখে তো মরা যায় না!

আমি আবার হাঁটা শুরু করলাম।

জীবনের পথে!


August 28, 2020

Mymensingh


Suicide (Nightmare) by Reza Karimi [Source: Iranian Paintings]


Comments